শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ, ১৪৩১

জুমার খুতবার সময় তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায়ের বিধান

মসজিদে ঢুকে সাথে সাথে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়াকে তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ বলা হয়। এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বৰ্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন,

إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ الْمَسْجِدَ فَلَا يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ

তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকাত নামাজ আদায় করার আগে যেন না বসে। (সহিহ বুখারি: ৪৪৪, ১১৬৭)

জুমার দিন ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে ওঠার আগে কেউ মসজিদে ঢুকলে এ দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারে। কিন্তু ইমাম মিম্বরে বসে গেলে আর নফল নামাজ পড়ার সুযোগ থাকে না। তখন খুতবা শুনতে বসে যেতে হবে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,

أن المسلم إذا اغتسل يوم الجمعة، ثم أَقْبَلَ إلى المسجد لا يُؤْذِيْ أحدا، فإن لم يجد الإمام خَرَج صلى ما بدا له، وإن وجد الإمامَ قد خرج، جلس، فاستمع وأنصت حتى يقضي الإمام جمعته وكلامه، إن لم يُغْفَر له في جمعته تلك ذنوبُه كلُّها، أن تكون كفارة للجمعة التي تليها

মুসলমান ব্যক্তি যদি জুমার দিন গোসল করে মসজিদে যায়, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকে, ইমাম বের হয়নি দেখলে যে পরিমাণ ইচ্ছা নামায পড়ে, ইমাম বের হয়ে থাকলে বসে যায়, চুপ থেকে খুতবা শোনে ও ইমামের সাথে নামাজ আদায় করে, তাহলে ওই জুমায়ই এ ব্যক্তির জীবনের সব গুনাহ যদি মাফ না-ও হয়, এটা তো অবশ্যই হবে যে, পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তা তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমদ: ২০৭২১)

জুমার খুতবা জুমার নামাজের অংশ। যেসব কাজ নামাজের মধ্যে হারাম, তা খুতবা চলাকালীন সময়ও হারাম। খুতবার সময় কথা বলা, অনর্থক কাজে লিপ্ত থাকা নাজায়েজ। রাসুল (সা.) খুতবার সময় চুপ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে কেউ কথা বললে তাকে ‘চুপ কর’ বলতেও নিষেধ করেছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন,

إذا قلت لصاحبك ’أنصت‘ يوم الجمعة والإمام يخطب فقد لغوت

জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ কর, তাহলেও তুমি অনর্থক কথা বললে। (সহিহ বুখারি)

Join Manab Kallyan