মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে রাজধানী নেপিদোর একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে। তবে মুক্তি দিলেও তাকে ‘গৃহবন্দি’ হিসেবে রাখা হবে বলে জানিয়েছে জান্তা সরকার।
২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বন্দি অবস্থায় আছেন। দীর্ঘ সময় তাকে নির্জন কারাগারে রাখা হলেও তার শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে খুব কমই জানা গিয়েছিল।
সু চির আইনি দলের একজন সদস্য নিশ্চিত করেছেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে তাকে নেপিদোর একটি নির্ধারিত আবাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী রোববার আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেবেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।
সু চির আইনজীবী বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন বদলেছে। এটি আর সাধারণ জেল পরিদর্শনের মতো হবে না, বরং সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।’
মিয়ানমারের সেনানিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে সু চির সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়ে আনা হয়েছে। ৩৩ বছরের মূল সাজা কয়েক দফায় কমিয়ে বর্তমানে ১৮ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে তাকে আরও ১৩ বছর সাজা ভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত মাসে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক মহলে নিজের বৈধতা বাড়াতে সু চিকে ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। ‘বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে’ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যাদের কখনোই জেলে নেওয়া উচিত ছিল না, জান্তা সরকার তাদের নিয়ে জনসংযোগের খেলা খেলছে। অথচ একই সময়ে তারা হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।’
এদিকে, সু চিকে কারাগার থেকে সরানোর খবরে জাতিসংঘ স্বাগত জানালেও তার পরিবার এখনো শঙ্কিত। সু চির ছেলে কিম আরিস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তার মা এখনো ‘বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একজন জিম্মি’। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক টেলিভিশন সু চির যে ছবিটি প্রচার করেছে সেটি অনেক বছরের পুরোনো। কিম আরিস বলেন, ‘আমি এখনো জানি না আমার মা কোথায় বা কেমন আছেন। যদি তিনি বেঁচে থাকেন, তবে আমাকে তার প্রমাণ দেন এবং তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেন।’
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই পদক্ষেপকে একটি ‘অর্থবহ ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরুর জন্য এটি সহায়ক হতে পারে। তবে তিনি অবিলম্বে দেশটিতে সহিংসতা বন্ধ এবং সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বিগত সামরিক জান্তা আমলেও সু চি ইয়াঙ্গুনের ইনলে লেকের পাশের বাড়িতে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন। ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতির মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে জান্তা সরকার আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, যা সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে বাড়িতে আনার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান






















