বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

টানা ১৪ জয়ের পর আর্সেনালের লাগাম টানলো বায়ার্ন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দারুণ প্রত্যাবর্তনে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল। বুধবার রাতে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেন আলফোনসো ডেভিস ও হ্যারি কেইন। অন্যদিকে আর্সেনালের হয়ে গোল দুটি করেন এবেয়ারেচি এজে ও ডেকলান রাইস।

ম্যাচের শেষ দিকে রাইসের দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরায় আর্সেনাল। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চলতি মৌসুমে অপরাজিত থাকার ধারাও ধরে রেখেছে মিকেল আর্তেতার দল। তবে এই ড্রয়ে টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে আর্সেনালের টানা ১৪ জয়ের ধারার অবসান হয়েছে।

ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেইনও। সাবেক ক্লাব টটেনহ্যামের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালের বিপক্ষে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারে গানারদের বিপক্ষে ২৩ ম্যাচে এটি তার ১৬তম গোল। তবে কেইনের সেই গোলও বায়ার্নকে জেতাতে পারেনি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্সেনাল। কিন্তু ম্যাচের ১০ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় দলটি। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় বুকায়ো সাকাকে। তার জায়গায় মাঠে নামেন এজে।

এরপরও আক্রমণের ধার কমেনি আর্সেনালের। ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের দুর্দান্ত পাস পেয়ে বায়ার্নের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন এজে। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলায়। ফলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।

তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ৩৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত থ্রু পাসে ডেভিসকে খুঁজে নেন কেইন। গতিতে জুরিয়েন টিম্বারকে পেছনে ফেলে বল জালে পাঠান ডেভিস। তাতে সমতায় ফেরে বায়ার্ন।

বিরতির পর দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্য প্রান্তে দয়ো উপামেকানোর হেডও দক্ষতার সঙ্গে ঠেকান আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।

৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেইন। টিম্বারের হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পায় স্বাগতিকেরা। স্পট কিক থেকে উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এর আগে বক্সে তার একটি শটও আটকে দিয়েছিল আর্সেনালের রক্ষণ।

গোলের পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। তবে কনরাড লাইমারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে স্বস্তি পায় আর্সেনাল।

৮২ মিনিটে সমতায় ফেরে গানাররা। ভিক্টর ইয়োকেরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে নিচু শটে নয়্যারকে পরাস্ত করেন রাইস। তার নিখুঁত শটে বল জড়ায় জালের নিচের বাঁ কোণে।

শেষ দিকে জয়সূচক গোলের সুযোগও পেয়েছিল আর্সেনাল। কিন্তু টিম্বারের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন নয়্যার। শেষ পর্যন্ত দুই দলের লড়াই থামে ২-২ গোলের সমতায়।

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন