বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

যেসব কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে

প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ে পিরিয়ড বা মাসিক না হলে অনেক নারীই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এক-দুদিন দেরি হলেই মনে প্রশ্ন জাগে, শরীরে কি কোনো সমস্যা হয়েছে? গর্ভধারণের আশঙ্কাও অনেকের মনে আসে। তবে মাসিক দেরি হওয়া মানেই যে গর্ভধারণ বা গুরুতর অসুস্থতা, এমন নয়। মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, ওজনের পরিবর্তন থেকে শুরু করে হরমোনের সমস্যাসহ নানা কারণে মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক ও ডিম্বাশয়ের মধ্যে হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন এলে মাসিকের সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে কারণগুলো জানা জরুরি।

মানসিক চাপ

দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে থাকলে শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। এতে ডিম্বস্ফোটন দেরিতে হতে পারে, ফলে মাসিকও পিছিয়ে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

নিয়মিত রাত জাগা, কম ঘুমানো কিংবা অনিয়মিত সময়ে কাজ করার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে মাসিক চক্রের অনিয়মের সম্পর্কও দেখা গেছে।

ওজনের হঠাৎ পরিবর্তন

অল্প সময়ে অনেকটা ওজন কমে গেলে কিংবা শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এর প্রভাবে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।

অতিরিক্ত শরীরচর্চা

কঠোর ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবার না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না। এতে ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হতে পারে এবং মাসিক দেরিতে হতে পারে।

বয়সজনিত হরমোনের পরিবর্তন

কিশোরীদের মাসিক শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক বছরে চক্র অনিয়মিত হতে পারে। আবার মধ্যবয়সে মেনোপজের আগের সময়েও মাসিকের ব্যবধানে পরিবর্তন দেখা যায়।

অপর্যাপ্ত পুষ্টি

দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি উপাদান না পেলে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টি ও অতিরিক্ত খাদ্যসংযম মাসিক অনিয়মের কারণ হতে পারে।

থাইরয়েডের সমস্যা

থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হলে মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস)

এই হরমোনজনিত সমস্যায় ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হতে পারে। ফলে মাসিক দেরিতে হওয়া বা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার মতো সমস্যা দেখা যায়।

জরায়ুর ফাইব্রয়েড

জরায়ুতে তৈরি হওয়া সাধারণত নিরীহ পেশিজাতীয় বৃদ্ধি বা ফাইব্রয়েডের কারণে মাসিকের সময় রক্তপাতের পরিমাণ ও ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শুধু মাসিক দেরি হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে একে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

অসুস্থতা ও গর্ভধারণ

জ্বর, সংক্রমণ বা শরীরের ওপর অতিরিক্ত ধকল সাময়িকভাবে মাসিক পিছিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া যৌনসম্পর্কের পর মাসিক দেরি হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।

দেরি হলে যেভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মাসিক চক্র স্বাভাবিক। মাঝেমধ্যে কয়েক দিন এদিক-ওদিক হলে তা সব সময় উদ্বেগের কারণ নয়। তবে আগে নিয়মিত মাসিক হওয়ার পর হঠাৎ অনিয়ম শুরু হলে, বারবার মাসিক বাদ পড়লে কিংবা টানা তিন মাস মাসিক না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে মাসিক না হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাড়িতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা যায়। ফল নেগেটিভ হলেও মাসিক না এলে কয়েক দিন পর আবার পরীক্ষা করুন।

তীব্র তলপেটব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক রক্তপাতের সঙ্গে মাসিক বন্ধ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

মাসিক চক্র নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশক। তাই দেরি হলেই আতঙ্কিত না হয়ে নিজের শরীরের পরিবর্তন খেয়াল করুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন