শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ, ১৪৩১

ব্যর্থ মিশন শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল

বলতে গেলে এক ধরনের গোপনীয়তার সঙ্গেই গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছিলেন সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ মিশন শেষে আজ দেশে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

শুক্রবার সকাল ৯ টা ৭ মিনিটে অ্যামিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে দলের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেননি বিদেশি কোচরা। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে সহ সবাই বিশ্বকাপ শেষে নিজ নিজ দেশে ছুটিতে গেছেন।

এবার বিশ্বাকাপে আফগানিস্তান যেমন প্রথমবার সেমিফাইনাল খেলছে, সে জায়গায় থাকতে পারতো বাংলাদেশও। ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখতে পারতো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সুপার এইটের শেষ ভাগে হঠাৎ করেই সে সুবর্ণ সুযোগ চলে এসেছিল টিম বাংলাদেশের সামনে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ১২.১ ওভারে ১১৬ রান করতে পারলেই সেমিতে পৌঁছে যেতেন শান্ত, লিটন, সাকিব, রিয়াদ, তাওহিদ হৃদয়, তাসকিন, মোস্তাফিজ ও তানজিম সাকিবরা।

কিন্তু সে লক্ষ্য পূরণ হয়নি। লক্ষ্য পূরণ হয়নি না বলে পূরণের চেষ্টাটাই করা হয়নি। ১২.১ ওভারে ১১৬ রান করা বহুদূরে শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১১৪ রানও টপকে যেতে পারেনি শান্ত বাহিনী। ডিএল মেথডে ৮ রানে হেরে বিশ্বকাপযাত্রা শেষ করেছে টাইগাররা।

নানা শঙ্কায় বিশ্বকাপ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত অভাবনীয়ভাবে সেমিতে খেলার একটা সুযোগ চলে এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। সে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার হতাশা আছে অবশ্যই। তবে এটা সত্য যে, বাংলাদেশ যে অনিশ্চিত যাত্রা শুরু করেছিল, সে তুলনায় গ্রুপ পর্বের প্রাপ্তি মন্দ নয়।

বেশির ভাগ ভক্ত, সমর্থক ও বিশেষজ্ঞের ধারণা ছিল, বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস আর নেপালের বিপক্ষেই শুধু জিতবে। দক্ষিণ আফ্রিকা আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পারবে না।

কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকেও হারিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারানোর যথেষ্ঠ সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু তীরে গিয়ে তরি ডুবেছিল তাদের। প্রোটিয়াদের ১১৩ রানে থামিয়েও পারেনি শান্তর দল; ৪ রানে হেরেছে।

এছাড়া নেদরল্যান্ডস ও নেপালের সঙ্গে যথাক্রমে ২৫ ও ২১ রানে জিতেছে টাইগাররা। তবে সুপার এইটে এসে তিন খেলার সবকটায় পরাজয় সঙ্গী থাকলো। অস্ট্রেলিয়ার কাছে বৃষ্টি ভেজা ম্যাচে ডিএল মেথডে ২৮ রানে এবং ভারতের কাছে ৫০ রানের পরাজয় ছিল সঙ্গী।

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কখনই ৩ ম্যাচ জিতেনি। এবার ৩ ম্যাচ জিতেই দেশে ফেরত আসছে। বরং ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভালো হলে এবং ব্যাটাররা দায়িত্ব ও কর্তব্যটা যথাযথভাবে পালন করতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও গ্রুপ ম্যাচ আর আফগানিস্তানের সঙ্গে সুপার এইটেও জেতারও সুযোগ এসেছিল। সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে সেমিফাইনালে পা রাখার সম্ভাবনাও ছিল।

Join Manab Kallyan