সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১

নেটওয়ার্ক ভাগাভাগি করবে টেলিটক-বাংলালিংক

নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক ভাগাভাগি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম অপারেটর টেলিটক ও বেসরকারি অপারেটর বাংলালিংক। এ অপারেটর দুটি যৌথভাবে অ্যাকটিভ শেয়ারিং বা ন্যাশনাল রোমিং সার্ভিস বাস্তবায়নে একটি পাইলট প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পরীক্ষামূলক ফিল্ড ট্রায়াল সফলভাবে শেষ করার পর দুই মাস মেয়াদি এ জাতীয় রোমিংয়ের পাইলট প্রকল্পে নির্বাচিত দুই হাজার টেলিটক পোস্ট-পেইড ও প্রি-পেইড গ্রাহকরা বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভয়েস কল, এসএমএস ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এটি সফল হলে বাংলালিংক ও টেলিটক দেশব্যাপী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অ্যাকটিভ শেয়ারিং চালু করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এটিই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুটি অপারেটরের মধ্যে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ভাগাভাগি।

এ ব্যবস্থা চালু হলে যেখানে টেলিটকের নেটওয়ার্ক নেই এমন জায়গায় টেলিটকের গ্রাহকরা বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে যেখানে বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক নেই সেখানে বাংলালিংকের গ্রাহকরা টেলিটকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন সরকার ব্যবসা করবে না, কিন্তু ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দেবে। সেই কারণে আজকে আমরা সারা বিশ্বের এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে যে শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোর সাফল্য আমাদের সামনে আছে, সেটা থেকে আমরা অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আজকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশে আমরা ন্যাশনাল রোমিংটা ইন্ট্রোডিউস করছি।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল রোমিং সিম্পল। আপনারা যারা বিদেশে গিয়েছেন যদি কারও বাংলালিংক সিম থাকে, আপনি যখন ভারতে গেলেন সিঙ্গাপুরে গেলেন কিংবা ইউরোপে গেলেন সে দেশে তো বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক নেই, কিন্তু ওই দেশের কোনো একটা লোকাল নেটওয়ার্কের বাংলালিংকের নেটওয়ার্কের সঙ্গে রোমিং হলে আপনি ব্যবহার করতে পারছেন। একই রকমভাবে আমরা খেয়াল করে দেখলাম, এখন যদি গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংকের সঙ্গে আমাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটককে প্রতিযোগিতায় রাখতে চাই, তাহলে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা আজকেই বিনিয়োগ করতে হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলালিংকের টাওয়ার আছে ১৪ হাজার, আমাদের (টেলিটক) টাওয়ার আছে ৬ হাজার। বাংলাদেশের যেখানেই যাই সেখানে আমরা বাংলালিংকের নেটওয়ার্কের ফোরজি ব্যবহার করতে পারছি, ভয়েস কল করতে পারছি, এসএমএস দিতে পারছি। কিন্তু টেলিটক সিম নিয়ে কোথাও গেলে ফোরজি, কোথাও থ্রিজি বা টুজি আবার কোথাও ইন্টারনেটই নেই। আবার কোনো কোনো জায়গায় নেটওয়ার্কও নেই।

‘কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে টেলিটকের টাওয়ারটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ব্যাটারি ব্যাকআপ নেই। এমন অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত টেলিটক। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সমাধানের পথ কী? সমাধানের পথ খুব সহজ।’

তিনি বলেন, আমাদের টেলিটকের ৬ হাজার টাওয়ার ও বাংলালিংকের ১৪ হাজার টাওয়ার। সুন্দরবনে টেলিটকের টাওয়ার রয়েছে। বাংলালিংকের সিম যাদের রয়েছে তারাও কিন্তু সুন্দরবনে গিয়ে সুবিধাটা পাবেন। টেলিটকের যে ৬ হাজার টাওয়ার আছে সেই সুবিধাটা বাংলালিংকের গ্রাহকরা পাবেন। আমার বাংলালিংকের ১৪ হাজার টাওয়ারের সুবিধাও টেলিটকের গ্রাহকরা পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত এক মাস ধরে ২০ থেকে ৩০টি সিম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব জায়গায় আমাদের অভিজ্ঞতাটা ভালো। আজকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে টেলিটক ব্যবহারকারী দুই হাজার জন নির্বাচিত করেছি। যারা রেগুলার ইউজার এবং যারা বেশি ভয়েস কল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যাদের থেকে আমাদের রেভিনিউ বেশি হয়। ওয়েটিং লিস্টে আরও আট হাজার গ্রাহক আছেন। এটা আমরা এক মাস পর আবার দেবো। প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শেষে আমরা সম্পূর্ণভাবে ন্যাশনাল রোমিংটা উন্মুক্ত করে দেবো।

বাংলালিংকের সিইও এরিক অস বলেন, টেলিটকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রথমবারের মতো অ্যাকটিভ শেয়ারিং বাস্তবায়ন করা বাংলালিংকের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এই চুক্তির ফলে টেলিটকের গ্রাহকরা দেশব্যাপী বাংলালিংকের দ্রুতগতির মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন। সম্প্রতি সারাদেশে আমরা আমাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ দ্বিগুণ করেছি, যার সুফলও গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ের (রোমিং) পাইলট প্রকল্প চালু হওয়া বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য একটি অন্যতম অর্জন। গ্রাহকদের মানসম্মত সেবাদানে টেলিটক সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলালিংক-এর সাথে এই চুক্তি গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে সহায়তা করবে, যা গ্রাহকদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Join Manab Kallyan