শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪, ৪ শ্রাবণ, ১৪৩১

আল্লাহর ভয় ও কান্না

আল্লাহর ভয় ইমানের অংশ। মুমিনের অন্তরে যেমন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তার রহমত ও ক্ষমার ব্যাপারে আশা থাকতে হবে, পাশাপশি তার অসুন্তুষ্টি, ভালোবাসা হারানো ও শাস্তির ব্যাপারে ভীতও থাকতে হবে। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ একইসাথে তার রহমত ও ক্ষমার জন্য আশাবাদী হতে বলেছেন, আবার তাকে ভয় করারও নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে আল্লাহ তার উত্তম বান্দাদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,

إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
তারা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করত, তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমার নিকট বিনীত। (সুরা আম্বিয়া: ৯০)

কুরআনে আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নিরাশ হতে নিষেধ করে বলেন,

لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ
তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। (সুরা জুমার: ৫৩)

আবার তাকে ভয় করার অপরিহার্যতা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন,

وَ خَافُوۡنِ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
আমাকে ভয় কর, যদি তোমরা মুমিন হও। (সুরা আলে ইমরান: ১৭৫)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন,

أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
তারা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর পাকড়াওথেকে কেউ নির্ভয় হতে পারে না। (সুরা আরাফ: ৯৯)

আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের সম্পর্কে বলেন,
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ

তারা যাদেরকে ডাকে, তারাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান করে যে, কে কত নিকটতর হতে পারে, তাঁর দয়া প্রত্যাশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার রবের শাস্তি ভয়াবহ। (সুরা ইসরা: ৫৭)

আল্লাহর পরিচয়, তার মর্যাদা, মহত্ব ও তার অসীম ক্ষমতার কিছুটা অনুধাবন করতে পারলেও মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগতে বাধ্য। আল্লাহ বলেন,

وَ مَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدۡرِهٖ وَ الۡاَرۡضُ جَمِیۡعًا قَبۡضَتُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَ السَّمٰوٰتُ مَطۡوِیّٰتٌۢ بِیَمِیۡنِهٖ سُبۡحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ

তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি। কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় এবং আকাশমন্ডলী ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাকে শরীক করে তিনি তার অনেক উর্ধ্বে। (সুরা জুমার: ৬৭)

আল্লাহর ভয়ে কান্নার ফজিলত
আল্লাহর ভয়ে কাঁদাও ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহর ভয়ে কান্নার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন হাদিসে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ بَكَى مِنْ خَشْيةِ اللهِ حَتَّى يَعُودَ اللَّبَنُ فِي الضَّرْعِ وَلاَ يَجْتَمِعُ عَلَى عَبْدٍ غُبَارٌ فِي سَبيلِ اللهِ وَدُخَانُ جَهَنَّمَ
আল্লাহ তাআলার ভয়ে ক্ৰন্দনকারী ব্যক্তির জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যেমন দোহনকৃত দুধ স্তনে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। (অর্থাৎ দোহনকৃত দুধ যেমন স্তনে ফেরানো অসম্ভব, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীরও জাহান্নামে যাওয়া অসম্ভব) আর আল্লাহ তাআলার পথের ধুলা ও জাহান্নামের ধোয়া কখনো একত্র হবে না। (সুনানে তিরমিজি: ২৩১১)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

لَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ قَطْرَتَيْنِ وَأَثَرَيْنِ قَطْرَةٌ مِنْ دُمُوعٍ فِي خَشْيَةِ اللهِ وَقَطْرَةُ دَمٍ تُهَرَاقُ فِي سَبِيلِ اللهِ وَأَمَّا الْأَثَرَانِ فَأَثَرٌ فِي سَبِيلِ اللهِ وَأَثَرٌ فِي فَرِيضَةٍ مِنْ فَرَائِضِ اللهِ

দুটি ফোটা ও দুটি চিহ্নের চেয়ে বেশি প্রিয় আল্লাহ তাআলার কাছে কিছু নেই। দুটি ফোঁটা হলো, আল্লাহ তাআলার ভয়ে ঝরা অশ্রুর ফোঁটা, আল্লাহর তাআলার পথে প্রবাহিত রক্তের ফোঁটা। দুটি চিহ্ন হলো, আল্লাহ তাআলার পথে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন, আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত কোনো ফরজ ইবাদত আদায়ের চিহ্ন। (সুনানে তিরমিজি: ১৬৬৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
عَيْنَانِ لَا تَمَسُّهُمَا النَّارُ عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ الله، وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ الله

জাহান্নামের আগুন কক্ষনো দুটি চোখকে স্পর্শ করবে না। একটি চোখ যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে কাঁদে। আরেকটি চোখ যা আল্লাহর পথে পাহারা দিয়ে বিনিদ্র রাত অতিবাহিত করে। (সুনানে তিরমিজি: ১৬৩৯)

Join Manab Kallyan