সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১

ময়মনসিংহে প্রতি তিনটি বিয়ের একটি টিকছে না

জেলায় গত বছর দৈনিক গড়ে বিয়ে হয়েছে ৫৭টি আর তার বিপরীতে বিচ্ছেদ ঘটেছে ২০টি

ময়মনসিংহে বিয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিচ্ছেদের সংখ্যা। প্রতিদিন যত যুগল নিজেদের বিয়ের বন্ধনে বাঁধছেন, সেই সংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ দম্পতি বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। ২৩৬ বছরের পুরনো ময়মনসিংহ জেলায় প্রায় ৬০ লাখ লোকের বসবাস। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে গত বছর দৈনিক গড়ে বিয়ে হয়েছে ৫৭টি আর তার বিপরীতে বিচ্ছেদ ঘটেছে ২০টি।

শিক্ষা-সংস্কৃতির নগরী হিসেবে খ্যাত এই জেলায় বিয়ে বিচ্ছেদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পরকীয়া, অল্প বয়সে বিয়ে, প্রবাসীর আধিক্য, তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের কথা বলছেন আইনজীবী ও উন্নয়নকর্মীরা।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে এ জেলায় বিয়ে হয়েছে ২০ হাজার ৮০৫টি, একই সময়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে ৭ হাজার ৩০০টি। বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ। ২০২২ সালে ২০ হাজার ২১৩টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ ঘটেছে ৬ হাজার ৩৯০টি। দৈনিক গড়ে ৫৬ বিয়ে এবং ১৮টির মত বিচ্ছেদ হয়েছে। ২০২১ সালে ১৯ হাজার ৯৩৩টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ হয় ৫ হাজার ৯১১টি। আর ২০২০ সালে ২১ হাজার ৮টি বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদ ঘটে ৫ হাজার ৫৩২টি।

ময়মনসিংহ জজ আদালতের আইনজীবী নাহরিন সুলতানা নীলা বলেন, “বিবাহ বিচ্ছেদের অনেকগুলো কারণ আমরা লক্ষ্য করেছি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ ও সমন্বয়হীনতার অভাব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, পরকীয়া প্রেম, অল্প বয়সে বিয়ে, বহুবিবাহের কারণে বিবাহ-বিচ্ছেদ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।”

১৪ বছর ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত নাহরিন সুলতানা ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এর হয়ে নারীদের নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “বিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।”

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক নাজনীন সুলতানা বলেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিয়ে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিকতা। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব আর বহুবিবাহ।

“এখনও নারীকে সমাজে অবহেলার চোখে দেখা হয়; পুরুষ শাসিত সমাজ মনে করে নারীকে ভরণ-পোষণ দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ। তারা সংসারের কোনকিছু করতে চায় না; সবকিছু নারীকে করতে হয়। যা নিয়ে অনেক সময় মনোমালিন্য হয়ে বিচ্ছেদে রূপ নেয়।”

নাজনীন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের কারণেও প্রতিনিয়ত বিয়ে বিচ্ছেদ বাড়ছে। মানুষ ইচ্ছে করলেই একে অন্যের সাথে যোগযোগ করতে পারছে। এক পর্যায়ে পরিচয় থেকে তা প্রণয়ে পরিণত হয়।“

পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় না করলে কোনোভাবেই বিয়ে-বিচ্ছেদ কমবে না বলে মত দেন এই কর্মকর্তা।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, এ জেলার অনেক মানুষ কাজের জন্য প্রবাসে থাকেন। সঙ্গীর অনুপস্থিতির সুযোগ ও একাকিত্ব দূর করার জন্য অনেকে অন্য সম্পর্কে জড়ান।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তারও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে মন্তব্য করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “বিয়ে-বিচ্ছেদ কমিয়ে আনতে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে।”

Join Manab Kallyan