বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১

উন্নত জীবনের হাতছানি পেছনে ঠেলে সফল উদ্যোক্তা ওয়ালিউল্লাহ

আরিফ মো. ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া, দেশের সফল উদ্যোক্তাদের একজন। চাইলে তিনি উদ্যোক্তা না হয়ে উন্নত কোনও একটি দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে থেকে যেতে পারতেন, যা এ দেশের প্রায় মানুষেরই স্বপ্ন। কিন্তু তিনি স্বনির্ভর ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, এমন প্রজন্ম গঠনের আশায় উন্নত জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করেছেন। আর সে লক্ষ্য নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

ওয়ালিউল্লাহ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই) উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২৩ পেয়েছেন। জাতীয় এসএমই পণ্যমেলা-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশের শিক্ষাখাতে বিশেষ অবদানের জন্য বর্ষসেরা ‘পুরুষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ হিসেবে পুরস্কার নেন তিনি।

এ স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার জন্ম ময়মনসিংহ জেলায়। ছোট থেকেই প্রচণ্ড মেধাবী ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে ২০০২ সালে এসএসসি ও ২০০৪ সালে এইচএসসিতে পেয়েছিলেন জিপিএ-৫, যেখানে সারা দেশে দুবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ১৫০ জন। এরপর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) থেকে ইলেট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিকসে অনার্স শেষ করেন।

তবে, তিনি কিন্তু কখনোই ইঞ্জিনিয়ার হতে চাননি, শিল্পী হতে চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা-মায়ের ইচ্ছায় ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়েছে। পরে পড়াশুনা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে তিনি উন্নয়নকর্মী হিসাবে যোগ দেন একটি এনজিওতে। সেখানে চাকরির সুবাদে ঘুরে বেরিয়েছেন সারা দেশ এবং দেশের মানুষের সমস্যাকে খুব কাছ থেকে দেখার ও সমাধানের উপায় বের করার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বেসরকারি সংস্থায় চাকরিরত অবস্থায় ছুটি নিয়ে জার্মান সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে এনভাইরনমেন্টাল ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করতে যাই। মাস্টার্স করার সময়েই আমার উদ্যোগ নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এরপর মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডি করার অফার থাকলেও আমি দেশে চলে আসি।

শিশুদের সঙ্গে গুফি টিমের সদস্যরা

উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে কেন উদ্যোগ শুরু করলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রাইমারিতে পড়ে এমন ৩ কোটি এবং বিশ্বে ১ বিলিয়ন শিশু আছে। বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, এসব বাচ্চাদের ৭৫ শতাংশ পড়াশোনা শেষ করে এমন এক কাজে ঢুকবে, যার অস্তিত্ব এখন পৃথিবীতে নেই। আবার আমাদের দেশে নানা সমস্যার কারণে চাকরিতে ঢুকতেই ৩৫-৪০ বছর বয়স হয়ে যায়। আমি দেখেছি, জার্মানির বিভিন্ন স্কুলে কীভাবে শিশুদের শেখানো হয়, আর আমাদের দেশে কীভাবে শেখানো হয়। আমরা এখন শিশুদের যেভাবে শেখাই এবং যা শেখাই, সেটার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের উপযোগী করে প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। তারা উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। এসব ভেবে আমাদের শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার জন্য দেশে চলে আসি এবং চাকরি ছেড়ে দিয়ে শুরু করি আমার উদ্যোগ ‘লাইট অফ হোপ’।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের বিষয়ে না জানলেও কী ধরনের স্কিল দরকার সেটা জানি। সেগুলো হলো- ক্রিয়েটিভিটি, প্রবলেম সলভিং স্কিল, ইমোশনাল স্কিল (নিজের বা অন্যের ইমোশনকে বুঝতে পারা, সিম্প্যাথি তৈরি হওয়া) এবং মোরাল ভ্যালুজ অ্যান্ড ইথিকস। ছোটতেই যদি এ চারটা স্কিল দিয়ে দিতে পারি, তাহলে তারা ভবিষ্যতে যে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারবে। তবে, বড় হয়ে গেলে এ স্কিলগুলো দেওয়া কঠিন।

ওয়ালিউল্লাহ বলেন, গবেষণা প্রতিবেদনে পেলাম দেশে ৩০ শতাংশ গ্রাজুয়েট বেকার ঘুরছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৪০ বছর পর কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশের এসব বেকারদের বসিয়ে খাওয়াতে পারবে না। আমাদের অভিভাবকরা জিপিএ-৫ নিয়ে ব্যস্ত, শিক্ষাব্যবস্থাও তাই। কিন্তু কাউকে বাচ্চাদের এসব স্কিল দেওয়া নিয়ে কথা বলতে দেখিনি। এজন্য মাস্টার্সের পর পিএইচডির সুযোগ পেয়েও করিনি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এ উদ্যোক্তা বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। কিন্তু কখনোই দেশ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছে হয়নি তার। তিনি বলেন, যদি সব মেধাবীরা বিদেশ যায়, তাহলে দেশের উন্নতি কীভাবে হবে? আমার-আপনার সন্তান এ দেশেই বড় হবে। তাই এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যদি পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে দেশে থেকেই আমাদের সন্তানরা বিশ্বমানের শিক্ষার পরিবেশ পাবে।

শিশুদের সঙ্গে উদ্যোক্তা

তার উদ্যোগ ‘লাইট অফ হোপ’র বিভিন্ন ব্রান্ডের একটি হলো ‘গুফি’। এখানে শিশুদের নানা ভবিষ্যৎ দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা হয়। ‘ডিজনি’ চরিত্রের গল্পগুলো যেমন বাচ্চা থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবারই আকর্ষণ করে। ঠিক তেমনই, তিনি তার ব্র্যান্ড ‘গুফি’ থেকে নানা চরিত্র নির্মাণ করেছেন। সেসব চরিত্রের মাধ্যমে বাচ্চাদের দক্ষতা উন্নয়নের শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

এ উদ্যোক্তার চারুকলায় পড়ার স্বপ্নটা পূরণ না হলেও এখন তিনি সেটার সঙ্গেই আছেন। তিনি বাচ্চাদের জন্য নির্মিত নানা চরিত্রকে কেন্দ্র করে গল্প লেখেন, ছবি আঁকেন। বর্তমানে তার গুফির কন্টেন্ট ও পণ্যগুলো অ্যামাজনের মাধ্যমে বিশ্বের ৩০টি দেশে ব্যবহার হয়। কন্টেন্ট বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, স্প্যানিশ, জার্মানি, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়।

এর আগে, জার্মানিতে মাস্টার্স করার সময় ডেল ও মাইক্রোসফটের যৌথ উদ্যোগে গ্লোবাল অ্যাডুকেশন চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে ওয়ালিউল্লাহ ও তার তিন বন্ধু অংশগ্রহণ করে তৃতীয় হন এবং আড়াই হাজার ডলার পুরস্কার পান। এ ছাড়া, তার বিশ্ববিদ্যালয় (জার্মানির) খুশি হয়ে আরও ৪ হাজার ডলার দেয়। এই পুরো সাড়ে ৬ হাজার ডলারই তাদের উদ্যোগের বিনিয়োগ।

উদ্যোগ শুরুর গল্পটা জানাতে গিয়ে এ উদ্যোক্তা বলেন, মাস্টার্স শেষ করে ২০১৪ দেশে ফিরি। প্রথমে চাকরির পাশাপাশি আইডিয়া নিয়ে কাজ করছিলাম। পরে মনে হলো এখন আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ এখানে দেওয়া দরকার। এজন্য ২০১৫ সালে চাকরি ছাড়ি। দু্ই বছর লাইসেন্স নেওয়াসহ প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো করি। ২০১৭ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে লাইসেন্স পেলাম।

ওয়ালিউল্লাহ প্রথমে সমস্যাগুলো নির্ধারণ করে কী স্কিল কীভাবে দিতে হবে, সেগুলো বের করেন। কারণ ৪-৫ বছর বয়সী বাচ্চাকে অ্যাপ দিয়ে বা ক্লাসে নিয়ে শেখানো সম্ভব না। তিনি বলেন, বাচ্চাদের সঙ্গে ৫-৬ বছর সময় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে স্কিলগুলো শেখানো সম্ভব। এজন্য বাচ্চারা পছন্দ করে এ ধরনের বিভিন্ন কন্টেন্ট বানানো সিদ্ধান্ত নিলাম। এর মধ্যে বই, বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি, শিক্ষামূলক খেলনা, অডিও-ভিজুয়াল কন্টেন্ট অন্যতম। পাশাপাশি বাচ্চারা সুপার হিরোর কথা শুনতে পছন্দ করে, সেজন্য আমরা চারটা স্কিলের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন চরিত্র নির্মাণ করলাম। যারা নানা ছলে বাচ্চাদের শেখায়। আমাদের অডিও-ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টগুলো দুরন্ত টিভিতে দেখানো হচ্ছে। সবমিলিয়ে আমাদের ৭০-৮০ ধরনের প্রোডাক্ট রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন উদ্যোক্তা

একটা পর্যায়ে এসে দেখলেন, এতেও তেমন কাজ হচ্ছে না। কারণ অনেক দক্ষতা আছে, যেগুলো বাচ্চারা হাতে কলমে শেখে, একজন আরেকজনের সঙ্গে কাজ করে শেখে। এগুলোর কিছু আবার স্কুলেও শেখানো হয় না। তারপর তিনি কিডস টাইম নামে একটা ব্র্যান্ড তৈরি করলেন। এর মাধ্যমে বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভ অ্যাক্টিভিটি শেখানো হয়, যেমন- গল্প বলা। সেখানে বাচ্চারা নিজেরা গল্প লেখে এবং বলে। আবার নানারকম চিত্রও আঁকে। এসব গল্প দুরন্ত টেলিভিশনেও কার্টুন আকারে দেখানো হয়। এটাতে বাচ্চাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিসহ নানা ফল দেখতে পান।

এ ছাড়া, বাচ্চাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য টিচার্স টাইম নামে একটা প্লাটফর্ম তৈরি করেন। গুফি, কিডস টাইম ও টিচার্স টাইম- একটা পরিবারে গেলে স্কিলগুলো বাচ্চার মধ্যে এতোটা দৃঢ়ভাবে ঢুকে যাবে যে, তার জন্য আর কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না বলে মনে করেন এ শিক্ষাবিদ।

আরিফ মো. ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের একটা উদ্যোগ আছে পড়ুয়া। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুলে লাইব্রেরি করে দিই। সেখানে আমাদেরগুলোসহ বিভিন্ন ধরনের ২০০-২৫০ বই দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৬২০টি স্কুলে লাইব্রেরি করে দিয়েছি। কারণ ওসব স্কুলের বাচ্চারা সরকারি বই ছাড়া অন্যকোনো বই কখনো দেখেনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ৪-৫টি ভাষায় আমাদের কন্টেন্ট অনুদিত হচ্ছে। অ্যামাজনে আমাদের পিডিএফ ফাইল আছে। আগামী বছর থেকে আমরা ইংরেজি ভাষাভাষি দেশে আমাদের কন্টেন্ট রপ্তানি করবো। এ ছাড়া, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেড় শতাধিক প্রশিক্ষিত নারী কর্মীদের দিয়ে পরিবেশবান্ধব খেলনাগুলো তৈরি করা হয়। আমরা এই কর্মী সংখ্যা ক্রমান্বয়ে ৫০০ তে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।

তবে, তার এই উদ্যোগের শুরুতে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, অনুসরণ করার মতো কোনো উদাহরণ ছিল না। প্রশিক্ষণ নেওয়ারও কোনো জায়গা ছিল না। কারণ বাচ্চাদের নিয়ে তেমন কোনো ব্রান্ড দেশে নেই। পুরো জিনিসটাই আমাকে তৈরি করতে হয়েছে। কিছু ইন্সপায়ারেশন গ্লোবালি বিভিন্ন কোম্পানি থেকে নিয়েছি। এছাড়া মার্কেটিং থেকে শুরু করে পণ্য প্রস্তত, বিক্রি সবকিছু আমার টিমের সদস্যদের করতে হয়। কারণ এ বিষয়ে দক্ষ মানুষ নেই।

তিনি আরও বলেন, এ কাজটাই যদি আমি আমেরিকাতে বসে করতাম, তাহলে আমার জন্য খুব সহজ হতো। আবার আমি চাইলে আমার সব পণ্য সহজেই চীন থেকে বানিয়ে আনতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা চাইনি। চেয়েছি, আমার উদ্যোগের সবকিছু যেন এদেশের মানুষ ভোগ করতে পারে। আর এ জন্যই মূলত আমার দেশে আসা। এ ছাড়া, পুঁজির তো সমস্যা থাকেই, সেটা না হয় বাদ দিলাম। আমরা এমন একটা ইস্যু নিয়ে কাজ করছি, যা সম্পর্কে অভিভাবকরাও খুব বেশি সচেতন নয়। অভিভাবকসহ সবাইকে বোঝানো লাগছে। আবার দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা ভালো না, সেটা ঠিক করতে হয়েছে।

বর্তমানে লাইট অফ হোপের কিডস টাইম আফটার স্কুল আছে। কিডস টাইমের আন্ডারে ধানমন্ডিতে এ বছর প্রি-স্কুলও চালু করা হয়েছে। দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের আউটলেটে তাদের সেলফসহ পণ্যগুলো দেওয়া আছে। অনলাইন চ্যানেলের পাশাপাশি এসব আউটলেট থেকে লাইট অফ হোপের শিক্ষামূলক প্রোডাক্ট বিক্রি হয়।

ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়ার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নেওয়া পুরস্কারই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৭ সালে গ্লোবাল এনার্জি নিয়ে তিনি একটা পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০১৮ সালে ইউনিলিভারের গ্লোবাল এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন, যা আমেরিকা থেকে প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাসটেইনেবল লিডারশিপ বিষয়ে কোর্স করার সুযোগ পান।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠানকে এসএমই ফাউন্ডেশন যে স্বীকৃতি দিয়েছে, তার জন্যই আমি আসলে খুবই অবাক হয়ে গেছি। এসএমই ফাউন্ডেশনের অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে তারা আমাকে বলেছেন, ‘আপনার বিষয়ে বিচারকদের বোঝাতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। কারণ আপনাদের কাজটা খুবই ইউনিক।’

এ স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা আরও বলেন, আমার উদ্যোগ জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০৪০ সালের মধ্যে আমরা উন্নত বিশ্ব হতে চাই। উন্নত বিশ্ব হতে হলে আমাদের ওই ধরনের দক্ষ মানুষ তৈরি করতেই হবে। এমন অ্যাওয়ার্ড পেলে নিজের ভালো লাগার পাশাপাশি টিমও অনেক উৎসাহ পায়। আমি নিজেও অনেক খুশি, কারণ আমি শিক্ষাখাতকে রিপ্রেজেন্ট করছি।

Join Manab Kallyan