শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ৫ শ্রাবণ, ১৪৩১

‘সবুজায়ন ফেরাতে না পারলে আরও খারাপ হবে পরিস্থিতি’

দেশে এখন যে তাপপ্রবাহ চলছে, এমন আগেও ছিল। কিন্তু এখন গরম অনুভূত হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। যার মূল কারণ ভুল নগর পরিকল্পনা। সেজন্য বন ও বনভূমি সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার ‘নগর তাপদাহের তীব্রতা: দায় কার? করনীয় কি?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা।

সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সভাপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে দায় আমাদের, সরকারের, সরকারের যন্ত্রের ও ব্যক্তিগত লোভ। ঢাকার বিভিন্ন খালের সঙ্গে নদীর সংযোগস্থল ভরাট করে ফেলেছে, নদী ও খালের সঙ্গে সংযোগ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে নদী ও খালের সংযোগের জমি অধিগ্রহণ করা হোক। মাত্র কয়েক হাজার মানুষের জন্য কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে না।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান অবস্থার জন্য সরাসরি রাষ্ট্র দায়ী। আমরা যদি সবুজায়ন ফিরিয়ে আনতে না পারি তাহলে দেশের অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপের দিক যাবে।

অধ্যাপক মিহির লাল শাহা বলেন, সবুজে ঘেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অন্যান্য স্থানের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রির বেশি তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। এর মূল কারণ, সেসব স্থানে গাছ না থাকা। আগামী বছরগুলোতে গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে।

অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, আমরা শহরে এন্টি ন্যাচারাল কাজ করছি। সরকারি কর্মকর্তারা সবুজায়ন করার নানা প্রকল্প গ্রহণ করলেও, ভালো ফলাফল কোনোটিতেও আসেনি। আর সময় নেই আমাদের হাতে। অত্যন্ত সবুজায়নের জন্য একটি দাবি বাস্তবায়ন করা হোক।

বাপার সভাপতি নূর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা করেন না। রাজনীতিবিদদের দেশের সবুজায়ন নিয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। দেশে বিপরীতমুখী উন্নয়ন চলছে। যা দেশ ও জনগণের জীবনের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি যশোর রোডের গাছগুলো কাটার পাঁয়তারা চলছে। এইভাবে গত বছর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের গাছগুলো কাটা হয়েছে তথাকথিত সৌন্দর্যবর্ধনের অজুহাতে। কিন্তু কি উন্নয়ন হয়েছে তা জনগণ দেখেছে।

মূল প্রবন্ধে স্থপতি ইকবাল হাবিব আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশে ভূখণ্ডের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা অপরিহার্য। বাংলাদেশের বন বিভাগের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে বন আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মোট ভূমির ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসেব মতে, বাংলাদেশে বার্ষিক ২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বন উজার হয়েছে যা বার্ষিক বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৬ বর্গকিলোমিটার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইন ফরেস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। ‘রাইজিং টাইডস, বোরিং ফিউচার্স: দ্য সুন্দরবনস কোয়েস্ট ফর সারভাইভাল-২০২৪’ শীর্ষক গবেষণা মতে, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ দশকে সুন্দরবনের ঘন বনাঞ্চল ২৭ ভাগ কমেছে। ৯০ শতকের প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃক্ষশোভিত এই মহানগরীতে বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাছ রয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ (ইউএস এইড জরিপ, ২০২২) এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ শতাংশেরও কম। অথচ একটি নগরে জনজীবনের জন্য ৩০-৪০ শতাংশ সবুজায়ন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ বছরে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা থেকেই প্রায় ৮৫ ভাগ জলাভূমি হারিয়ে গেছে। পাশাপাশি এ সময়ে নির্মাণ এলাকা বা স্থাপনা বেড়েছে ৭৫ ভাগ। অর্থাৎ সবুজ গাছপালা এবং জলাশয় ধ্বংস করে কংক্রিটের স্থাপনা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে অনুমোদনহীন ভবনের সংখ্যাই ৯৪ শতাংশেরও বেশি বলে জানান তিনি।

এই স্থপতি বলেন, ফলে, বাতাসের আনুভূমিক চলাচল সড়ক করিডোরের বাইরে নেই বললেই চলে। এভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য নগরীর বিভিন্ন এলাকা উত্তপ্ত দ্বীপের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তাপীয় দ্বীপ বা ‘হিট আইল্যান্ড’ এ রূপান্তরিত হয়েছে।

Join Manab Kallyan