ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। হোয়াইট হাউজ অনুমোদন দিলেই এসব পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম তদারককারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে হামলার সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিবেচনার জন্য এসব পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ‘আগামীকালই’ ইরানে হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ‘বড় ও চমৎকার’ একটি চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। তবে তিনি বলেছেন, সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত।
দুই পক্ষই নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে ইউরোপকে আহ্বান
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সাঈদ খাতিবজাদেহ।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হামলা মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
খাতিবজাদেহ বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপ একের পর এক ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে। এখন তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ভুল নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে ইউরোপীয় শক্তিগুলো ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে ইসরায়েলের ‘অপরাধ’ এবং আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো থেকে নিজেদের দূরে রাখার আহ্বান জানান।
খাতিবজাদেহ আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া বন্ধ না করলে তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইউরোপকে আন্তরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
ইরানে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠনের উদ্যোগ জোরদার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র করার একটি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ইরান। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাদের কাজে লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
‘জানফাদা’ নামে এই জনসমাবেশ ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ কর্মসূচির অর্থ ‘যাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন’। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের তীব্রতা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল, তখন গত মার্চের শেষ দিকে কর্মসূচিটি চালু করা হয়।
এখন দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কর্মসূচিটি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নারী ও পুরুষ—উভয়কেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তরুণদের অংশগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলেও সব বয়সের মানুষের জন্য কর্মসূচিটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আবার শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে ইরানের এই উদ্যোগ দেশটির নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা






















