রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৩০ আষাঢ়, ১৪৩১

সিরাজগঞ্জে জীর্ণ কাঠের সেতুতে ১৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে চরনাকালিয়া খাল। দুটি ইউনিয়নে ১৫টি গ্রাম রয়েছে। খালের ওপর সেতু না থাকায় নিজেদের উদ্যোগে দুটি স্থানে কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেটিও এখন নড়বড়ে। সাঁকো পার হয়ে উপজেলা সদর ও বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। এছাড়া খালের দুই পাড়ে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকও সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।

রেহাইপুখুরিয়া গ্রামের মো. মনির হোসেন বলেন, ‘কাঠের সেতু দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করা যায়। তবে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে মাঠ থেকে ফসল মাথায় করে বয়ে আনতে হয়। এতে সময় নষ্ট হয়। পাশাপাশি পড়তে হয় ভোগান্তিতে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী জানান, খালের ওপর নির্মিত কালভার্ট বন্যায় ভেসে গেলেও দীর্ঘদিন আর নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটি পুরনো হয়ে গেছে। সবাইকে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাত বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত কালভার্ট বন্যায় রাস্তাসহ ভেঙে যায়। যাতায়াতের বিকল্প আর কোনো রাস্তা না থাকায় বিপাকে পড়ে কয়েক হাজার মানুষ। পরে স্থানীয় মানুষ ও ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে দুটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।

রেহাইপুখুরিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম জানান, রেহাইপুখুরিয়া কলেজ, আরপিএন শহীদ শাহজান কবির উচ্চ বিদ্যালয়, রেহাইপুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে এখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মোল্লা বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এত বড় সেতু করার কোনো সুযোগ নেই। এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়ছে। পুরনো হওয়ায় সাঁকো দুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করা হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। দুটি স্থানেই দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হবে। রেহাইপুখুরিয়া উত্তরপাড়ায় সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চরনাকালিয়া খালের ওপর সেতুর নকশা তৈরির কাজ চলমান। দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।

Join Manab Kallyan