বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

পূর্ণ চাঁদে নবুয়তের অলৌকিক স্বাক্ষর

ড. মিজানুর রহমান আজহারী

আল্লাহর হাবিব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাশের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন। মক্কার লোকজন এসে বলল, ‘মুহাম্মদ! তুমি যে আল্লাহর নবী, তার প্রমাণ কী?’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কী প্রমাণ দেখতে চাও?’ তারা বলল, ‘ছোটখাটো কোনো অলৌকিক ঘটনা দেখালে চলবে না। যদি আকাশের চাঁদকে দুই ভাগ করে দেখাও, তবেই আমরা তোমাকে আল্লাহর নবী হিসেবে মেনে নেব।’

নবীজি (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি যদি তা করে দেখাই, তবে কি তোমরা ইমান আনবে?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আনব।’ আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, ‘ঠিক আছে, সামনের মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে অর্থাৎ যখন আকাশে পূর্ণাঙ্গ জ্বলজ্বলে পূর্ণিমার চাঁদ উঠবে, তখন তোমরা এসো।’

নির্দিষ্ট রাতে সবাই উপস্থিত হলো। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাঁদের দিকে তাঁর শাহাদাত আঙুল দিয়ে কেবল একটি ইশারা করলেন। সাথে সাথে কোটি কোটি বর্গকিলোমিটার আয়তনের সেই বিশাল চাঁদটি দুই ভাগ হয়ে দুই দিকে সরে গেল!

রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন সাহাবিদের ডেকে বললেন, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো, ভালো করে দেখে রাখো যে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে।’ সাহাবিরা সাক্ষী রইলেন। বিশাল আয়তনের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে এক ভাগ হেরা গুহার একপাশে এবং অন্য ভাগ হেরা গুহার অপর পাশে চলে গেল। কাফেররাও তা দেখল, নওমুসলিম সাহাবিরা দেখলেন এবং দূর-দূরান্তের বহু মানুষও তা প্রত্যক্ষ করল। এমন কি কিছু বর্ণনায় এসেছে, ভারতের ভূখণ্ড থেকেও অনেকে এই অলৌকিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

কিন্তু কাফেররা তা দেখেও বলল, ‘আমরা তো জানতাম মুহাম্মদ কেবল মানুষের হৃদয়ে জাদু করে, এখন দেখছি সে আকাশের চাঁদেও জাদু করে ফেলেছে!’

এত বিস্ময়কর অলৌকিক ঘটনা দেখেও তারা ইমান আনলো না। আল্লাহ তাআলার তওফিক ছাড়া কেউ ইমান ও হেদায়াত লাভ করতে পারে না। আমরা আল্লাহর কাছে হেদায়াত কামনা করি, আল্লাহ যেন আমাদের হেদায়াত দান করেন।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুক্বা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র ও মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্তি চাই।) জীবনের সর্বাবস্থায় নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে হেদায়াত চাইতেন। জীবনে যেন আমরা এমন কোনো অপরাধ না করি, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের হেদায়াতের পথ চিরতরে বন্ধ করে দেন; এমন কোনো পাপ বা সীমালঙ্ঘনে যেন আমরা না জড়াই, যার ফলে হেদায়েতের দুয়ার আমাদের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

নিজেদের চোখে চাঁদকে দুই খণ্ড হতে দেখার পরও কাফেররা বলল, ‘এ তো নিছক জাদু! তুমি এক মহা জাদুকর। মুহাম্মদ! তুমি আগে মানুষের মনে জাদু করতে, আর এখন চাঁদের ওপরও জাদু চালিয়েছ!’

তারা অপেক্ষা করতে লাগল মক্কার বাইরে থেকে ব্যবসায়ী কাফেলাগুলো ফিরে আসার জন্য। তারা ভাবল, বহিরাগত ওই কাফেলাগুলোকে জিজ্ঞেস করে দেখা যাক যে, ওই রাতে তারা আকাশে এমন কিছু দেখেছিল কিনা।

তিন-চার দিন পর এক বণিক কাফেলা মক্কায় এসে পৌঁছল। তারা কাফেলার লোকদের জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি অমুক মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত পূর্ণিমার রাতে আকাশে অদ্ভুত কিছু দেখেছিলে?’ তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন বলে উঠল, ‘হ্যাঁ! ওই রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, তখন আমাদের দায়িত্ব ছিল উটগুলোকে পানি খাওয়ানো। হঠাৎ আমরা দেখলাম, আকাশের ভরা চাঁদটি দুই ভাগ হয়ে দুই দিকে সরে গেছে!’

কিন্তু এত সব প্রমাণের পরও মুশরিকরা ইমান আনেনি। আল্লাহ তাআলা সত্যই বলেছেন, ‘আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকেই হেদায়াত দিতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন, সেই হেদায়াত পাবে।’

চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করার ঘটনাটি ছিল প্রিয় নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বড় মোজেজা।

সূত্র: মিজানুর রহমান আজহারীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন
Join Manab Kallyan