শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

১৮ বছরের জঞ্জাল ৫ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

১৮ বছরের জঞ্জাল পাঁচ মাসে তো নয়ই, ১৮ মাসেও পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা সংকট সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম বলেন, এই দেশটাকে নিয়ে অনেক ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ১৮ বছরের জঞ্জাল পাঁচ মাসে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এমনকি ১৮ মাসেও তা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না। এত দীর্ঘ সময়ের সমস্যা সমাধানে আরও সময় প্রয়োজন। সরকার এক মুহূর্তের জন্যও বসে নেই। দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ চলছে।

বিরোধী দলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ বলছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ১৮ বছরের জঞ্জাল কি পাঁচ মাসে শেষ করা সম্ভব? এটা সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতির বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, গত ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী সময়ে রাজনৈতিক কারণে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এসব বিষয়ে অসংখ্য আবেদন পেয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আবারও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, তারা যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যাবেন। তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যাদের বঞ্চিত করেছে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকার বিদায়ের সময় তড়িঘড়ি করে কিছু জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করে বিষয়টি বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক জুলাই যোদ্ধা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন অথচ গেজেটভুক্ত হননি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া আবারও উন্মুক্ত করা হয়েছে। যারা প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা, তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করে গেজেটভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।

গত ১৮ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন এবং বহু পরিবারের বুক খালি হয়েছে। এসব নির্যাতিত মানুষেরও মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি জানান, ১৮ বছরে হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষ এবং তাদের পরিবারের মূল্যায়নের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্যাতিতরা আবেদন করলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লবিং, গ্রুপিং ও দলাদলি ভুলে যেতে হবে। মতভেদ হলে নিজেদের মধ্যে বসে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই ক্ষতি করতে পারবে না।

সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের নেতারা।

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন
Join Manab Kallyan