বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

কোকোর নামে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস, উদ্বোধন শুক্রবার

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নামে আয়োজিত হচ্ছে ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা।

আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা। ২৩ অক্টোবর বিকেল ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন দেশের ৫৭টি সংস্থার ৫৬৫ অ্যাথলেট। তাদের মধ্যে ৪৩১ জন পুরুষ ও ১৩৪ জন নারী। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে থাকবেন ১১০ জন ম্যানেজার ও কোচ। জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, শারীরিক শিক্ষা কলেজ, বিকেএসপি ও ডাক বিভাগের অ্যাথলেটরা লড়বেন পদকের জন্য।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে বুধবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন, যুগ্ম সম্পাদক মনজুর মোরশেদ ও মাহবুবুল আলম টুকুসহ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

পুরুষ ও নারী-দুই বিভাগে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পুরুষদের ২২টি ও নারীদের ১৮টি ইভেন্ট। প্রতিযোগিতার দৌড়ের ইভেন্টগুলোতে নির্ভুল ফলাফল ও সময় নির্ধারণে ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রনিক ফটোফিনিশিং ব্যবস্থা। আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিটি ইভেন্টের ফলাফল অনলাইনেও প্রকাশ করা হবে।

মূল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি থাকছে ভিন্ন ভেন্যুতে কয়েকটি ইভেন্ট। আগামী ২৩ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বনানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাতটি থ্রো ইভেন্ট। ২৪ অক্টোবর শনিবার ভোর ৫টায় পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে হবে ম্যারাথন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী অ্যাথলেটদের যথাক্রমে ৬ হাজার, ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেবে ফেডারেশন। রেকর্ড গড়া অ্যাথলেটদের জন্য থাকছে ২০ হাজার টাকা অর্থ পুরস্কার। আর প্রতিযোগিতার সেরা অ্যাথলেট পাবেন এক্সপ্লয়েট কোম্পানির সৌজন্যে ১০০ সিসির একটি ইলেকট্রিক বাইক। ফেডারেশনের তিন সদস্যের কমিটি সেরা অ্যাথলেট নির্বাচন করবে।

দেশের অ্যাথলেটিকসের উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফেডারেশনের সভাপতি, ‘দেশের অ্যাথলেটিকস উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, যার প্রথমটি হচ্ছে এবারের কোকো ১৮তম সামার অ্যাথলেটিকস আয়োজন। এ ছাড়া আমরা অ্যাথলেটিকসের স্থায়ী ভেন্যু নির্মাণ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ভেন্যুর জন্য আমরা পল্টনস্থ হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের পাশে থাকা কয়েক কাঠা জমিকে আপাতত বিবেচনায় রেখেছি।’

প্রতিভাবান অ্যাথলেট খুঁজে বের করতেও উদ্যোগ নিয়েছে ফেডারেশন। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১৩টি জেলা নির্বাচন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমে আরও জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানান সভাপতি।

জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস শেষ হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। তার আশা, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের মতো অ্যাথলেট তৈরি করা সম্ভব হবে।

আসন্ন দক্ষিণ এশীয় গেমসে (এসএ গেমস) অ্যাথলেটিকসে ১০টি পদক জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ফেডারেশন। এর মধ্যে দুটি স্বর্ণপদক জয়ের প্রত্যাশা করছেন কর্মকর্তারা। আলী ইমাম তপন বলেন, ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস খেলা শেষে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। আসন্ন এসএ গেমসে আমাদের লক্ষ্য ১০টি পদক জয়। যার মধ্যে দুটি স্বর্ণপদক আশা করছি আমরা। লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভালো মানের অ্যাথলেট বের করে আনব।’

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন
Join Manab Kallyan